তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)সংবাদদাতা।। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত ও রূপের নদী যাদুকাটার পাড় কাটার পুরনো ছবি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট পাঠিয়ে ও ফেইসবুকে প্রচার করে একটি স্বার্থন্যাসী বালু পাথর সিন্ডিকেট চক্র যাদুকাটা নদী থেকে শ্রমিকরা যাতে বালু পাথর উত্তোলন করতে না পারে তা বন্ধ করা জন্য তৎপর চালিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দু’পাড় শুকিয়ে যাদুকাটা নদী এখন মৃত প্রায়। নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার শ্রমিক নদীতে কুড়িয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন আনুমানিক ৩০ হাজার শ্রমিক।
কিন্তু একটি চক্র তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই নদীর পুরনো পাড় কাটার ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দিয়ে একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শ্রমিক জানান, এই চক্রটি গেল বর্ষার মৌসুমে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার লালপুর,গজারিয়া,দুলভপুর ও ছাতকে লক্ষ লক্ষ সেফটি বালু স্টক রেখে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যে করার উদ্দেশৌই মূলত তারা এমন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এই যাদুকাটা নদীতে বালু ও পাথর কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ কারীদের বালু উত্তোলন বন্ধ করতে এই চক্রটি সক্রিয় বলেও জানা যায়। এই ৩০ হাজার শ্রমিক পরিবারের লক্ষাধিক জনসংখ্যার জীবনে নেমে আসবে চরম হতাশা। ফলে তাদেরকে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হবে। গুটি কয়েক মুনাফালোভীরা তাদের হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন অপতৎপরতা অব্যাহত থাকায় চরম বিপাকে রয়েছেন সাধারন কেটে খাওয়া শ্রমিকরা।
এই চক্রটি যাদুকাটা নদীতে শ্রমিকদের কাজকাম বন্ধ করে স্টক ব্যবসায়ীরা ১৫ টাকা ফুটের বালুর দাম হয়ে যাবে ৩০ টাকা ফুট। এইজন্য এই চক্রটি পুরানা নদীর পাড় কাটার ছবি প্রচার করে শ্রমিকদের পেঠে লাথি মারার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সরকারের কনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় এই যাদুটাকা নদীতে ১২০ হেক্টর জায়গা লীজে দেয়া হয়েছে এবং মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে এই নদীতে সাধারন শ্রমিকরা সেলু মেশিন দিয়ে হাতে কাজকাম করে বালু ও পাথর উত্তোলন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।
এ ব্যাপারে ইজারাদারগণ বলেন এই ইজারার অধিকাংশ জায়গার অবস্থান হচ্ছে নদীর পাড়ে। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা নদীর পাড়ে না গিয়ে নদীর মধ্যেই বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।